আগামী তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা পিআর) নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কানাডা সরকার। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে নতুন অভিবাসী নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর কানাডার ফেডারেল সরকার নতুন এই অভিবাসন পরিকল্পনা প্রকাশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯—প্রতিটি বছরেই ৩ লাখ ৮০ হাজার করে নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণ করা হবে।

নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক অভিবাসনকে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী, প্রাদেশিক মনোনয়ন কর্মসূচি (PNP) এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে অধিকাংশ অভিবাসী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া পরিবার পুনর্মিলন, শরণার্থী এবং মানবিক বিবেচনায় অভিবাসনের সুযোগও অব্যাহত থাকবে।

**ফরাসিভাষীদের জন্য বিশেষ সুযোগ**

নতুন পরিকল্পনায় ফরাসিভাষী অভিবাসীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুইবেকের বাইরে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দার হার ২০২৭ সালে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে ১২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কানাডা সরকার।

**কোন যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে?**

কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের আগ্রহীদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

- দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা।

- শিক্ষাগত যোগ্যতা।

- পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা।

- ইংরেজি অথবা ফরাসি ভাষায় দক্ষতা।

- কানাডার শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশাগত দক্ষতা।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

**আবেদন করলেই কি পিআর পাওয়া যাবে?**

কানাডা সরকারের ঘোষিত ১১ লাখ ৪০ হাজার পিআর গ্রহণের সংখ্যা একটি লক্ষ্যমাত্রা, কোনো আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মসূচির যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

নতুন এই পরিকল্পনায় দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের জন্য কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।