দৃশ্যটা মনে আছে? তেল-চকচকে মাথায় বার কয়েক আঙুল চালালেন জিনেদিন জিদান। এরপর হাতটা এমনভাবে ঝাঁকালেন যেন তুরিনে আজ ভীষণ গরম পড়েছে। আসলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুর্দান্ত গোলের পর তাঁর এমন প্রতিক্রিয়া! তখনকার রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিদান সেই অলৌকিক মুহূর্তেকে যেন পরখ করতে চেয়েছিলেন এভাবে, রোনালদোর গোলে তাঁর মাথায় বুঝি চুল গজিয়েছে!
না তেমন কিছু না ঘটলেও বাইসাইকেল কিকে করা রোনালদোর সেই গোলটা যে বিশেষ মর্যাদা পাবে তা অনেকেই তখনই আন্দাজ করে নিয়েছিলেন। তাঁদের আন্দাজ সঠিক। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে রোনালদোর গোলটাই এবার উয়েফার বর্ষসেরা।

তুরিনে এ বছরের ৩ এপ্রিলের সেই মুহূর্তটা সত্যিই অলৌকিক। লুকাস ভাসকেজের বুলেট গতির শট চল্লিশ পার করা জুভেন্টাস গোলরক্ষক (এখন তিনি পিএসজির) জিয়ানলুইজি বুফন কী দারুণভাবেই না ‘সেভ’ করেছিলেন। কিন্তু বুফনের সেই জাদুকরি সেভকে রোনালদো স্রেফ ‘ওভার ট্রাম্প’ করেছিলেন। দানি কারভাহালের ক্রসটা ছিল রোনালদোর পেছনে, মানে গোলের উল্টো দিকে। সেটাও নিজের উচ্চতার চেয়েও বেশ উঁচুতে। কিন্তু রোনালদো পেছনে ঘুরেই একটু এগিয়ে নিজেকে ছুড়ে দিয়েছিলেন শূন্যে। বাইসাইকেল কিক!

আড়াআড়ি উচ্চতার বলকে এমন কিকে পা ছোঁয়ানোই যেখানে অনেক কঠিন, সেখানে রোনালদোর শট বুফনকে নড়ার সুযোগটুকু না দিয়ে আশ্রয় নিয়েছে জালে। সেটাও আবার বুফনের ‘কনভেনশনাল’ ডাইভ দেওয়ার উল্টো প্রান্ত দিয়ে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে রোনালদোর সেই জাদুকরি গোল উয়েফার বর্ষসেরা হিসেবে প্রায় ২ লাখ (১,৯৭,৪৯৬ ভোট) ভোট পেয়েছে। উয়েফার বর্ষসেরা গোলের এই প্রতিযোগিতায় এবার মোট ভোটসংখ্যা ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৫। অর্থাৎ রোনালদোর গোলটি শতকরা ৫৬.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো, রোনালদো রিয়ালে থাকতে এই গোল করেছিলেন তাঁর বর্তমান ক্লাব জুভেন্টাসের জালে। ২০১৫ সাল থেকে এই পুরস্কার চালু হওয়ার পর রোনালদোই প্রথম খেলোয়াড় যিনি তাঁর বর্তমান ক্লাবের জালে লক্ষ্যভেদ করে বর্ষসেরা গোলের পুরস্কার জিতলেন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এ পুরস্কার জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। যথাক্রমে বায়ার্ন মিউনিখ ও রোমার জালে গোল করে। ২০১৭ সালে একই পুরস্কার জিতেছেন রোনালদোর বর্তমান ক্লাব সতীর্থ মারিও মানজুকিচ। রিয়াল মাদ্রিদের জালে গোল করেছিলেন এই ক্রোয়াট স্ট্রাইকার। আর এবার তা জিতলেন রোনালদো। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম উয়েফা বর্ষসেরা গোলের পুরস্কার। যে গোল হজমের পর জুভেন্টাসের দর্শকেরা উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখিয়েছিলেন রোনালদোকে।

পর্তুগিজ তারকার সেই গোলটি বর্ষসেরা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর জুভেন্টাসের টুইট, ‘অভিনন্দন ক্রিস্টিয়ানো! উয়েফা মৌসুম সেরা গোলটি তোমার।’ রোনালদো নিজেও এই পুরস্কার পেয়ে ভীষণ খুশি। বিশেষ করে গোলের পর জুভেন্টাস স্টেডিয়ামে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তিনি কখনোই ভুলবেন না। এ নিয়ে জুভেন্টাস তারকার টুইট, ‘যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ। মুহূর্তটা কখনো ভুলব না। বিশেষ করে স্টেডিয়ামে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া। উয়েফার মৌসুম সেরা গোল। বিশেষ মুহূর্ত।’

এবার রোনালদোর পেছনে থেকে রানার-আপ হয়েছে দিমিত্রি পায়েতের গোলটি। ইউরোপা লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে লাইপজিগের বিপক্ষে দারুণ ড্রিবলিংয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে গোল করেছিলেন এই মার্শেই তারকা। তাঁর গোলটি ৩৫, ৫৫৮ ভোট পেয়েছে। ২৩,৩১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্পেনের নারী ফুটবলার ইভা নাভারো। মেয়েদের ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলটি করেছিলেন তিনি।

Leave a Reply

  • (not be published)