পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈরিতা থাকলেও সে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাদের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আপত্তি নেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “ইমরান খান অনেক ছক্কা মেরেছে। এখন দেখেন ক্ষমতার ছক্কা মারতে পারে কি না? আমরা খুশি হব ওটা করতে পারলে…একজন প্লেয়ার, তার যে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট আছে…বহু চেষ্টা করেই ক্ষমতায় এসেছে।”

১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট শিরোপা এনে দেওয়া ইমরান খান গত মাসেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন; যদিও অনেকের মতে, পাকিস্তানের ক্ষমতাশালী সেনাবাহিনীই ইমরানকে ক্ষমতায় এনেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানে এক টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেল অনুসরণ করে পাকিস্তানকে গড়ে তুলতে ইমরান খানকে পরামর্শ দেন সে দেশের কলামনিস্ট জায়গাম খান।সংবাদ সম্মেলনে ওই অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে ধরায় শেখ হাসিনা বলেন, “এটা ধরে রাখতে (পাকিস্তান) যদি কোনো সহযোগিতা চায়, অবশ্যই আমরা করব, করব না কেন?”

জনগণের কল্যাণে কাজ করার অভিপ্রায় জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেখানে মানুষগুলোর কথা চিন্তা করুন। ষড়যন্ত্রকারীদের নয়, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করুন। “তাদের কল্যাণে আমাদের যদি কোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে হয়, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”

সেনাপ্রধানের সঙ্গে কি কথা হলো ইমরান খানের

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন ইমরান খান। ওই বৈঠকের দিকে দৃষ্টি সবার- কি আলোচনা হয়েছে তাদের মধ্যে তা জানতে। এমনিতেই অভিযোগ আছে, ইমরান খান হলেন সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল। তিনি সেনাবাহিনীর মনোনীত প্রার্থী ছিলেন পাকিস্তানের নির্বাচনে। এমন অভিযোগ এখনো মিইয়ে যায় নি। সেই ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেনাপ্রধানের দপ্তরে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে কি আলোচনা করেছেন তারা। ভারতের অনলাইন জি নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, ইমরান খান বলেছেন পাকিস্তান এখন আভ্যন্তরীণ ও বাইরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অন্যদিকে সেনাপ্রধান তাকে আশ্বস্ত করেছেন। বলেছেন, অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতোই কাজ করবে সেনাবাহিনী। বেসামরিক কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনো বাসনা সেনাবাহিনীর নেই। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বিষয়ে ব্রিফিংয়ের জন্য রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর সফরে যান ইমরান খান।

এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া। তাকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। এরপর ইমরান খান শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের বৈঠক নিয়ে টুইট করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিষয়ক শাখা ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর)। তাতে বলা হয, প্রতিরক্ষা, আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও পেশাগত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী।

বৈঠকটি স্থায়ী হয় আট ঘন্টা। পরে তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী টুইট করেন। এতে তিনি বলেন, সেনা সদর দপ্তরে চমৎকার একটি বৈঠক হলো। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা কমান্ড অব ওয়ার্ল্ডসের সেরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে এমন বৈঠক করে গর্বিত। এমন ব্রিফিংয়ের মহান মূল্য রয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ও সহযোগিতায় সব প্রতিষ্ঠান সব রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে।

Leave a Reply

  • (not be published)