‘কমিটির কোনো খবর আছে, কবে হতে পারে কিছু জানেন?- ছাত্রদলের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাদের মুখে এমন প্রশ্ন ঘুরে ফিরে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে ‘ছোটরা’ এমন প্রশ্ন করলেও কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না কেউ। কারণ কারোরই জানা নেই কবে হতে পারে দুই বছর আগে মেয়াদ ফুরানো ছাত্রদলের নতুন কমিটি।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি আর মামুনুর রশিদ মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির মেয়াদ আট মাস বাকি থাকতে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩৬ সদস্যের ‘ঢাউস’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের অক্টোবরে। কিন্তু দুই বছরেও নতুন কমিটি দিতে সম্মেলনের কথাই হয়নি।

কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদ প্রত্যাশী নোয়াখালী অঞ্চলের একজন ছাত্রদল নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কমিটি কবে হবে ছোট ভাইদের এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত। অথচ আমাদের কাছেও এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে শুনেছি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।’

তবে বিএনপি অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি হওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠছেন ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেতে আগ্রহী সদস্যরা।

পদপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা, কমিটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আন্দোলন সংগ্রামে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাই বিগত আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল, চাপের মুখেও মাঠ ছাড়েনি, নতুন নেতৃত্ব যেন তাদের হাতেই দেয়া হয়।

ঠিক সময়ে কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে এটা বিএনপির নেতারাও জানেন। তবে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়াসহ নানা কারণে কমিটি দেয়ায় বিলম্ব হয়েছে।

দীর্ঘদিনেও কমিটি না হওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। আগের মতো তেমন কোনো কর্মসূচি না থাকায় নিষ্ক্রিয়ও হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ।

ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাইমসকে বলেন, ‘আসলে আমরা গার্ডিয়ান ছাড়া হয়ে পড়েছি। ১০টা বছর প্রতিকূল অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। দুই বছর হলো মেয়াদ শেষ কিন্তু কমিটি হলো না। কেউ বলতেও পারছেন না কবে কমিটি হবে। পুরোপুরি অনিশ্চিত অবস্থা। আমরা এর অবসান চাই।’

ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দীন তুষার কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হওয়া ওষুধ খেলে মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ঠিক মেয়াদ শেষ হওয়া ছাত্রদলের কমিটি দিয়ে বিএনপি আন্দোলনে গেলে সফলতা না আসার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমান অবস্থায় ছাত্রদলে কোনো চেইন অব কমান্ড নেই।’

তবে এমনটা মানতে রাজি নন বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান প্রচার সম্পাদক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আমাদের চেয়ারপারসন। এই সময় নির্যাতনের মধ্যেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাত্রদলের দেখভাল করছেন। কমিটির বিষয়টিও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’

নতুন কমিটির বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কমিটি এটি সংগঠনের চলমান প্রক্রিয়া। দায়িত্বশীলরা পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে যখন উপযোগী মনে করবেন তখন অবশ্যই যোগ্যদের দিয়ে কমিটি করবেন।’

বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত কমিটি হওয়ার দাবি রাখে।’

বিএনপির নেতারা বলছেন, তারা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আন্দোলনে যাবেন। আর এর আগে ছাত্রদলের কমিটি করার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আছে। ইতিমধ্যে মূল দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনের সব ইউনিটের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, আংশিক কমিটিগুলোও পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটা চলমান প্রক্রিয়া। আর দলে গতি আনতে হলে অবশ্যই মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ সংগঠনকে গোছাতে হবে। ছাত্রদল আমাদের ভ্যানগার্ড। এদের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার খবর দলের হাইকমান্ড অবগত। আশা করি সহসাই এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাজীব আহসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি করার দায়িত্ব বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের। তারা সার্বিক বিষয় খোঁজখবর রাখছেন। আশা করি দ্রুত সময়ে নতুন কমিটি পাবে ছাত্রদলের লাখ লাখ কর্মী সমর্থক। তবে নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল।’

নতুন কমিটির দাবি নিয়ে দেন দরবার

ছাত্রদলের নতুন কমিটি কবে হবে, সেটা জানা না থাকলেও পদপ্রত্যাশালীরা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও এসব নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

নতুন কমিটিতে সংগঠনটির শীর্ষ পদ পেতে আগ্রহী এজমল হোসেন পাইলট ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বর্তমান কমিটি অনেক দিন আগেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিটি হলে সংগঠনে গতি আসবে, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে আরও অংশগ্রহণ বাড়বে। এমন প্রত্যাশা থেকেই কমিটি চাইছি আমরা।’

ছাত্রদলের আরেক সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চার বছর হতে চলল ছাত্রদলের কমিটি। স্বভাবতই নতুন কমিটির দাবিটা যৌক্তিক। মাঠ পর্যায়ও চাচ্ছে নতুন কমিটির মাধ্যমে নব উদ্দীপনা সৃষ্টি হোক। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আমাদের আদর্শিক নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।’

ছাত্রদলের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ১/১১ থেকে শুরু করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই রাজপথে সক্রিয় আছি। মেধা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করলে আশা করি আগামী কমিটিতে উপযুক্ত পদ পাব।

পদ পেতে আগ্রহী যারা

নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য আলোচিতদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান ও আবু আতিক আল হাসান মিন্টু।

যুগ্ম সম্পাদকদের মধ্যে আছেন আসাদুজ্জামান আসাদ, নুরুল হুদা বাবু, মিয়া মো. রাসেল, বায়েজিদ আরেফিন, শামছুল আলম রানা, করিম সরকার, মেহবুব মাসুম শান্ত, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, মিজানুর রহমান সোহাগ, করিম সরকার, মির্জা ইয়াসিন আলী, নাজিম মাহমুদ।

সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদু্জ্জামান আসাদ, ইখতিয়ার কবির, কাজী মোখতার হোসাইন, মিয়া রাসেল, মেহবুব মাসুম শান্ত, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ক্রীড়া সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, সমাজসেবা সম্পাদক আবদুর রহিম, পাঠাগার সম্পাদক মেহেদী হাসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মেহেদী তালুকদারসহ আরও কেউ কেউ চাচ্ছেন ছাত্রদলের নতুন কমিটির সামনের সাড়িতে জায়গা করে নিতে।

Leave a Reply

  • (not be published)