গানের গল্প
— মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

পাবার সময় হতে না হতেই —- গানটা লেখার এক মজার ঘটনা আছে ।
দৃশ্য বুঝে নেবার পর দিনের পর দিন বসছি, কখন আমার বাসায়, কখনো
পরিচালক সৈয়দ হারুনের বাসায়, কখনো স্টুডিওতে, আবার আলাউদ্দিন
আলীর বাসায়। প্রচুর খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে, কিন্তু গান আর বেরুচ্ছে না। শেষে
একদিন সৈয়দ হারুনের বাসায় বসলাম, সেদিন ছবির নায়ক প্রযোজক ইলিয়াস
কাঞ্চনও উপস্থিত। হারুন খুব ভালো রাঁধতে পারে। রান্না হলো। খেতে বসার সময়
হারুন বললো, রফিক ভাই, নিজে রান্না করে খাওয়াচ্ছি, এর পরেও
যদি গান না বের হয়, তাহলে আজ সব খাবার বের করে নেবো। বললাম, ওটা
তো বের করতেই হবে। তবে হজম করা পর্যন্ত দেরী করতে হবে। খাবার সময় হতে —
— বলেই থমকে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম, হয়ে গেছে —- । সবাই তাকালো। খাবার
টেবিলেই কাগজ টেনে নিয়ে লিখে ফেললাম :–
পাবার সময় হতে না হতেই
যাবার সময় হয়ে গেলো
জীবন নদী সারাটা জীবন
ভুলের স্রোতেই বয়ে গেলো ।।

কোথায় ছিলাম, কোথায় এলাম,
কোথায় আমি যাবো
নিজের কাছেই প্রশ্ন করি
জবাব কোথায় পাবো ?
আশা আমার মিথ্যে আশার
নিরাশাতেই ক্ষয়ে গেলো ।।

চাওয়ার মুকুল ফোটার আগেই
যে ফুল যাবে ঝরে
স্মৃতিও তার রাখবে না কেউ
কারো বুকে ধরে ।
চোখের আলো বন্ধ চোখের
অন্ধকারেই রয়ে গেলো ।।
প্রায় ৮ দিন বসার পর গানটা যখন এলো, তখন মাত্র ২০-২৫ মিনিটেই সম্পূর্ণ হয়ে গেলো।
আর খেতে খেতেই আলাউদ্দিন আলী সুর গুণ গুণ শুরু করলো। খেয়ে উঠেই আলী বসে
পড়লো। সুরটা হয়ে গেলো আধা ঘণ্টায়।

Leave a Reply

  • (not be published)