৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ১৯ Jun ২০১৮, ১২:৪৭ অপরাহ্ন

লন্ডনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকের আয়োজনে বিজয় দিবস

২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান। মুক্তি যুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আপ্যায়িত করা হয়।
বক্তৃতামালায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহসী ভূমিকা গুলো নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করার জন্য জোড় দাবী জানানো হয় বক্তারা বলেন স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখন ছিলেন ব্রাহম্মণবাড়িয়ার সন্তান। তাকে স্বাধীনতার আন্দোলনের  চার খলিফার এক খলিফা বলা হয়। স্বাধীনতার প্রথম পতাকা তারাই উড্ডয়ন করেন।

বক্তারা আরও বলেন  রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সাথে রয়েছে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমান্ত এলাকা এবং সীমান্তের ওপার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেরিলা বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপর দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাসই জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে সম্মুখ যুদ্ধ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং নিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন কিছু দালাল-রাজাকার ব্যতীত তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার প্রায় ১০ লাখ মানুষই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিকাংশ অঞ্চল ২ নং সেক্টরে এবং কিয়দংশ ৩ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ । তিনি তাঁর সেক্টরকে ৬ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২২ মে মুজাহিদ ক্যাপ্টেন আঃ হকের নেতৃত্বে একটি গেরিলা দল কসবা উপজেলার সালদা নদী এলাকায় অবস্থানরত পাক বাহিনীর প্রতিরক্ষা ঘাটির উপর অকস্মাৎ আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর ১৫ জন নিহত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ৪ জন শহীদ হন। ২৭ মে সকাল ৭ টায় মুক্তিবাহিনীর এক এ্যামবুশে পড়ে সালদা নদীর পাড়ে পাকবাহিনীর ৯ জন নিহত হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে পাকবাহিনীর এক কোম্পানি সৈনিক রেলযোগে আখাউড়া থেকে মুকুন্দপুর হয়ে হরষপুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। এ সংবাদ জানতে পেরে কমান্ডার লেফটেন্যান্ট হেলাল মুর্শেদ ও কয়েকজন সঙ্গীসহ মুকুন্দপুর ও হরষপুরের মাঝামাঝি রেললাইনে ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন বসিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত প্রায় ৪ টার দিকে পাকবাহিনী বোঝাই রেলগাড়িটি মাইনের আওতায় এসে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে ইঞ্জিনসহ রেলগাড়ির কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খাদে পড়ে যায় এবং এ ঘটনায় পাকবাহিনীর ২৭ জন সৈন্য নিহত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আখাউড়ার দরুইন যুদ্ধে শহীদ হন। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া নামক স্থানে অবস্থিত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন বীরত্বপূর্ণ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা

১। মোঃ হাবিবুর রহমান বীর উত্তম মঈনপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর
২। শহীদ শাফিল বীর উত্তম আজমপুর, আখাউড়া।
৩।শহীদ নাছির উদ্দিন বীর উত্তম মোহাম্মদপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর।
৪।লেঃ জেঃ (অবঃ) নাসিম বীর বিক্রম চাপুইর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর।
৫।সুবেদার (অবঃ) শামসুল হক বীর বিক্রম বলিবাড়ী, নবীনগর।
৬।শহীদ আব্দুল মান্নান বীর বিক্রম নোয়াগ্রাম, নবীনগর।
৭।মোঃ শাহজাহান সিদ্দিকী বীর বিক্রম নবীনগর।
৮।ক্যাপ্টেন (অ) আঃ হক ভূইয়া বীর বিক্রম রাধানগর, আখাউড়া।
৯।গোলাম মোস্তফা বীর বিক্রম কুটি, কসবা।
১০।নায়েক সুবেদার (অবঃ) আবুল খায়ের
বীর বিক্রম রাধানগর, আখাউড়া।
১১।মোঃ সাইদুল হক বীর প্রতীক ঘাটিয়ারা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর।
১২।মেজর (অবঃ) জহিরুল হক খান
বীর প্রতীক সুহিলপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর।
১৩।সুবেদার (অবঃ) আঃ রশিদ
বীর প্রতীক ভাটামাতা, আখাউড়া।
১৪।সুবেদার (অবঃ) মঙ্গল মিয়া
বীর প্রতীক ভাটামাতা, আখাউড়া।
১৫।ক্যাপ্টেন (অবঃ) জাহাঙ্গীর ওসমান ভূইয়া
বীর প্রতীক ছতুরা শরীফ, আখাউড়া।
১৬।সুবেদার (অবঃ) আঃ মালেক
বীর প্রতীক দঃ পৈরতলা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর।
১৭।সুবেদার (অবঃ) আঃ আউয়াল
বীর প্রতীক মান্দারপুর, কসবা।
১৮।সুবেদার (অবঃ) সহিদুল হক
বীর প্রতীক তন্তর, আখাউড়া।
১৯।এডঃ দেলোয়ার হোসেন বীর প্রতীক নীলাখাদ, আখাউড়া।
২০।সুবেদার (অবঃ) মোঃ আবু তাহের
বীর প্রতীক কোড়াবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর।
২১।মোঃ সামসুদ্দিন বীর প্রতীক বিষ্ণুপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর।
২২।এ এম ইসহাক বীর প্রতীক রাধানগর, আখাউড়া।
২৩।সৈয়দ মোঃ রফিকুল ইসলাম
বীর প্রতীক রতনপুর, নবীনগর।
২৪।মোঃ হাফিজ মিয়া বীর প্রতীক রতনপুর, নবীনগর।
২৫।মানসুরুল আলম দুলাল
বীর প্রতীক জাফরপুর, নবীনগর।
২৬।হাবিলদার (অবঃ) আঃ সোবহান
বীর প্রতীক চরলহনীয়, বাঞ্চারামপুর।
২৭।নায়েব সুবেঃ মোঃ হোসেন
বীর প্রতীক মোগড়া, আখাউড়া।
২৮।আঃ জববার বীর প্রতীক মোগড়া, আখাউড়া।
২৯।মোঃ আবু সালেহ বীর প্রতীক নারায়ণপুর, আখাউড়া।
৩০।শহীদ আলমগীর করিম
বীর প্রতীক নারায়ণপুর, আখাউড়া।
প্রমুখ

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি