প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি আওয়ামী লীগ সরকার কখনো করেনি, করবেও না। বরং বিএনপিই সরকারে থাকতে চীনের সঙ্গে গোপনে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির ব্যাপারে দেশের জনগণ ও সংসদকে একটি কথাও জানতে দেয়নি। তাই ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে- এ ধরণের বিবৃতি সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া, অবিবেচনা প্রসূত এবং বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। আমরা ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি তার সবগুলোই দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে।  বুধবার দশম সংসদের ১৫তম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ, গোলাম দস্তগীর গাজী, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ও ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদ নেতা আরও বলেন, আইপিইউ সম্মেলনে বিশ্বের সংসদসমূহ ও জনপ্রতিনিধিগণের স্বতঃস্ফুর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বের আস্থা ও সমর্থনের বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন সারাবিশ্বই গ্রহণ করেছে। এই সফল আন্তর্জাতিক এসেম্বলী দেখেও ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, ‘ঘটে যদি পানি’ থাকে- তারা এসব কথা আর বলবেন না।শেখ হাসিনা বিএনপির রাজনীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি ও পার্লামেন্টারি কালচার সম্পর্কে কি জানে? তারা জানে জ্বালাও পোড়াও এবং গালি-গালাজ করতে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব জানে ২০১৪ সালে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। তাই বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত থেকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সমর্থন দিয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ে চুক্তি কিংবা সমঝোতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গেই আমাদের বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ে চীন, রাশিয়া, কুয়েত, কাতারসহ অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক রয়েছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে চীনের সঙ্গে দেশের মানুষকে একটি কথাও না জানিয়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল। এমনকি সংসদকেও কোনকিছু জানায়নি।দেশের স্বার্থবিরোধী কোন চুক্তি আওয়ামী লীগ করবে না।সংরক্ষিত নারী আসনের বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সফরকালে যে সমস্ত চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তার সবগুলোর শিরোনাম ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোন চুক্তি/সমঝোতা স্মারকই দেশের স্বার্থ বিরোধী নয়। তাই ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে- এ ধরণের বিবৃতি সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া, অবিবেচনা প্রসূত এবং বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম এবং আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ। দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি আওয়ামী লীগ সরকার করবে না। এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে তা বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নীতকরণে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে, যা এই সফরের একটি বড় অর্জন।তিস্তা পানি চুক্তি প্রসঙ্গ :- তিস্তা নদীর পানি চুক্তি প্রসঙ্গে একই প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীর পানি চুক্তির বিষয়টি আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক এবং তৎপর। ভারত সফরকালে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জোর আহ্বান জানাই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, তার সরকার ও আমার সরকার ক্ষমতায় থাকতেই তিস্তার পানি বণ্টনের মাধ্যমে সমাধান হবে। অন্যান্য নদীর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা প্রদানের প্রয়াসে ভারত সরকার বেশ কয়েকটি ঘোষণা দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের ৫ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদান এবং প্রতিবছর ১০০ জন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভারতে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, তার এ সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে যা দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি। সংসদ নেতা আরও জানান, গণহত্যা দিবসের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টায় ভারতের সহযোগিতা কামনা করি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, যা যৌথ ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন ও তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার দিল্লীস্থ ‘পার্ক স্ট্রিট’-এর নতুন নামকরণ করেছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রোর্ড’।

 

Leave a Reply

  • (not be published)