৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ১৯ Jun ২০১৮, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

আমার ছোট কাকু ।। দিনের শেষে।।

আমার ছোট কাকু 
।। দিনের শেষে।।

 

অনেকক্ষণ ধরেই ভাবছিলাম কিছু একটা লিখব । আজ সকালবেলা যখন ঘুম ভাঙলো তখন বুঝলাম বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে । আমার খাটটা জানালার সাথে লাগানো । থাই গ্লাসটা একটু সরিয়ে বৃষ্টি ঝড়া দেখতে লাগলাম । ভাল লাগছিলো দেখতে । সকালবেলা অফিস না থাকলে আরও কিছুক্ষণ ঘুমাতে পারতাম । ইদানিংকালে এত ঘুম পাচ্ছে যে বলার মত নয় । রোজার সময়ে কিছুটা ঘুমের সমস্যা হচ্ছে । সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩.৩০ পর্যন্ত অফিস করার পরে বাসায় যাবার তাড়া থাকে তখন আর অন্য কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না । ইনবক্সে অনেক শুভাকাংখী এসএমএস দিয়ে যাচ্ছে । খুব প্রয়োজন না হলে কথা বলি না । অনেকে হয়ত ভাবছেন আমার ভাব বেড়ে গেছে । আসলে ভাবটাব কিছু নয় । যাদের সাথে নিত্য দিন কথা হয় তারা হয়ত বিষয়টি জানেন বা বোঝেন । আর যারা নতুন তারা আমার বিষয়টি জানেন না । রেডিওতে থাকা কালীন এত এত লিসেনারের এসএমএস এর উত্তর দেয়াটা অনেক বড় রকমের একটা পেইন মনে হত । আর সবার সাথে এত কথা বলার সময় কই ? তখন থেকেই এড়িয়ে চলতে শিখেছিলাম । উত্তর না দিয়ে কি ভাবে থাকা যায় তার পদ্ধতি আমি শিখেছিলাম । অনেক সময় অবশ্য অনেকে অনেক বাজে কথাও বলেছিল এই বিষয়টি নিয়ে । এখন সয়ে গেছে আর তাই আমার এই আইডিতে যারাই আমাকে কিছু বলেন তাতে কিছূই যায় আসে না । থাকতে ইচ্ছে হলে থাকবেন নয়ত চলে যাবেন এটাই নিয়ম । এর মধ্যেই ভাল কিছু বন্ধু আছে যাদের সাথে অনেক কথা না হলে ও কিছুটা হয়ে থাকে । আর ফোনের ক্ষেত্রে ?? সেইম কাজ । অনেকের উত্তর ফেবুতে দেইনা বলে কেউ কেউ ডিরেক্ট ফোন করে বসে । টোটালি রিসিভ করিনা । অপ্রয়োজনীয় কথা বলতেই নারাজ । দরকারী কথা থাকলে বলা শেষ আর আমারও কথা শুনা শেষ । কে কি ভাবল আর কে কি মনে করল তাতে কিছুই যায় আসেনা ।
গতকাল মনটা ভীষন খারাপ ছিল । ফেবুতে দু এক জনের সাথে বিষয়টি শেয়ার করতে গিয়েও শুধু চোখের জল পড়েছিল রাতে । সামনে ঈদ । বাবার সাথে গতকাল রাত জেগে ফ্যামিলির বিষয়ে কিছু আলাপচারিতায় বাবা হঠ্যাতই ছোট কাকুর কথা বলে কাদতে লাগল । সহোদর ভাই এত কম বয়সে মারা গেলো এটা ভাবতেই পারে না, মানতেও পারে না বাবা । এমনকি এখনও নয় । কাকুর ছোট দুটো বাচ্ছা আছে । একটু বড় হলো এ দেড় বছরে । কাকুর মেয়েটার হয়ত বাবা কি জিনিস তা কিছুই মনে নেই । এখন একটু বোঝে আর এ বুঝ হবার পরেই আমার বাবাকে বাবা বলে জানতেছে । নাম সামিয়া আদর করে আমরা সামি বলে ডাকি । কি মিষ্টি হয়েছে সামিটা । গতকাল বাবার কান্না দেখে আমারও চোখের পানি আটকাতে পারলাম না । এত এত বছরের সর্ম্পক কিভাবে ভুলে যাবে বাবা ? লিখাটি এখন লিখতে গিয়েও আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছে এই মুহূর্তে । ছোট কাকুর সাথে দীর্ঘ কয়েক বছর আমি কথা না বলে ছিলাম । একটা রাগের কারনে কতটা দুরে সরে গিয়েছিলাম তা আজ বুঝতে পারছি আমি । অবশ্য এখন বুঝেও কিছু করার নেই । হসপিটালের বেডে যখন কাকু শুয়ে ছিল যখন তার নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল যখন কাকু নিজেও হয়ত বুঝেছিল যে এখনিই হয়তবা কাকু চলে যাচ্ছে ঠিক তখন দেখলাম কাকু আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আমার চোখ থেকে শুধু পানি পড়ছিল । কাকুর আর কথা শুনা হলো না আমার । কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাকুর নিশ্বাস নেয়াটা বন্ধ হয়ে গেল । ডাক্তার মুখের অক্সিজেন মাস্ক সরিয়ে নিলেন । বাবা আমি একটু দুরে দাড়িয়ে শুধু দেখে গেলাম । বাবা অনেকক্ষণ ধরেই ছটফট করছিল কাকুর কাছে যাবার জন্যে । কিন্তু মামা আর অন্য আত্মীয়রা যেতে দিল না । সেই কথাগুলো গতকাল হঠ্যাত আবার মনে পড়ে গেল আর তাই খুব কেদেছিলাম আমি । কাকু মিস ইউ । তোমাকে বোধ হয় অনেক ভালবাসতাম তাই যখন কাছে ছিলে তখন বুঝিনি আর যখন চলে গেলে তখন ফিল করছি যে কতটা ভালবাসি আমি তোমায় ।

মারা যাবার এক সপ্তাহ আগেও টিএসসিতে দেখা হয়েছিল আমার সাথে কাকুর । সিগারেট টানতে টানতে যাচ্ছিল কাকু । আমি কিছু বলিনি আর তাই কাকুও কিছু না বলেই হাটা দিল সামনের দিকে । কাকু আমাদের বাসায় দিদাকে দেখতে এলেও কথা বলা হত না । কাকু সবসময় আমার রুমে বসত, দিদার সাথে কথা বলত । যখন কাকু আমার রুমে আসত আমি তখন অন্য রুমে চলে যেতাম । কতটা ইগনোর করেছিলাম সে সময়ে কাকুকে । আর তার ফল এখন ভোগ করছি আমি । কাকু বারবার কথা বলার অনেক সুযোগ খুজেছিল কিন্তু আমি কেন যেন সেই সুযোগগুলি বাস্তবে হতে দিতাম না । আজ কিছুটা হাহাকার বোধ করছি কাকুর জন্যে ।

একটা বিষয় না বললেই নয় তা হল —- “ রাগ বিষয়টা সত্যিই অনেক বাজে একটা বিষয় । এই রাগের জন্যে আমি আমার অনেক কাছের মানুষদের হারিয়েছি । তখন বুঝিনি যখন সময়টা চলে গেছে তখন বুঝতে পারলাম ” আমি রাগটা কখনই কন্ট্রোল করতে পারিনি । যাকে ঘৃনা করেছি তাকে আর কখনই কাছে টানিনি । এই রাগটাই আমার সবকিছু কেড়ে নিল । সবকিছু……………

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি