২রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৮, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

আমার সাংবাদিকতা ও লেখালেখির অন্তরালের কথা গুলো। পর্ব- ১(এক) -আপন দে অপু

আমার সাংবাদিকতা ও লেখালেখির অন্তরালের কথা গুলো। পর্ব- ১(এক)
-আপন দে অপু
একটি ঘটনা প্রায়শই মনে পড়ে এবং সাংবাদিকতায় উৎসাহিত হই। সেই ঘটনাটা আজ আর না বলে থাকতে পারছিনা। তখন গ্রামের বাড়িতে থাকি। “দৈনিক রব” পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টারের দায়িত্বে ছিলাম। সাংবাদিকতায় নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। এখানে সেখানে ছোটাছুটি করে সংবাদ সংগ্রহ করে চলে যেতাম সপ্তাহে দুইদিন লক্ষ্মীপুর শহরে। আমার নিজের কম্পিউটার ছিলোনা। এলাকায়ও নেটের অবস্থা খুব শোচনীয় ছিলো। একটি নিউজ পাঠাইতে একঘণ্টা লেগে যেত। আর তাছাড়া এমবি‘র যা দাম তা দিয়ে পুষতনা। তাই ভাড়া বেশি গেলেও পত্রিকা অফিসে গিয়ে নিউজ রেডি করে দিয়ে আসতাম। অনেক সময় অফিসে না গিয়ে সাইবার ক্যাফে থেকে নিউজ পাঠাতাম। পরে সম্পাদকের সাথে দেখা করতাম। সম্পাদক সহিদুল ইসলাম সহিদ ভাই ছিলো আমার বড়ভাইয়ের মতো। সবসময় দিকনির্দেশনা দিতো। দুপুর বেলা একসাথে দুজনে হোটেলে লাঞ্চ করতাম। ভালোই কাটতো দিনগুলো। অনেক সময় পকেট শূন্য থাকলে ভাই হাত খরচের পয়সা দিয়ে দিতো। আর পরিবার ! বাবা তো সইতেই পারতেন না। আমাকে কত সহস্রবার বারণ করেছে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে, তার ইয়ত্তা নেই। সর্বশেষ ঢাকায় আসার আগেও বলেছেন, “ঢাকায় যেতে হবে সাংবাদিকতা করতে” দেশে আর চাকরির অভাব পড়ছে। গ্রেটওয়ালে ঢুকে যেতে পারিস না ? (“গ্রেট ওয়াল টাইলস” এর মালিকের বাড়ি আমাদের বাড়ির পাশেই, একই এলাকায়)।
আজ যে কথাটি বলতে চাইছি তা হলো আমার শিক্ষাগুরু, আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিয় শিক্ষক এর একটি কথা। শুধু প্রাথমিক নয় তিনি আমার সারাজীবনের প্রিয় শিক্ষক। যতদিন বাঁচবো তার শিক্ষার কথা মনে থাকবে। তাকে কখনোই ভোলা যাবেনা। এখন এলাকারই অপর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। নাম হেলাল উদ্দিন।
একদিন চুল কাটার জন্য বাজারের একটি দোকানে ঢুকলাম। গিয়ে দেখি স্যার চুল কাটাচ্ছেন। আমি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। এবং কুশলাদি বিনিময় করলাম। স্যারের সাথে সেদিন দোকানের কথা গুলো ছিলো নিম্নরূপ –
স্যার : অপু শুনলাম তুই নাকি সাংবাদিকতা করছিস ?
আমি : জি স্যার, স্থানীয় “দৈনিক রব” পত্রিকায় লিখি।
স্যার : ভালো । চালিয়ে যাও। এটা অনেক ভালো।
আমি : জি স্যার দোয়া করবেন।
স্যার : আর শোন একটি কথা “অমুকের” মতো হইসনা। তোকে ভালো জানি আর সেইটা ধরে রাখবি। সবচেয়ে বড় হচ্ছে মানসম্মান। (অমুক” আমি তার নাম বলে তাকে ছোট করতে চাইনা। তিনিও আমাদের এলাকারই। অনেক সিনিয়র সাংবাদিক। একটি স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি। যদিও তিনি আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা নিউজ করেছেন)
স্যারের সেই দিনের কথাগুলো আজো আমার বুকে বিঁধে আছে। সারাজীবন ধারণ করতে হবে তার কথা গুলো। একজন নবীন সাংবাদিকের আর কি চাওয়ার ছিলো ?—————— চলবে

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি