একজন কাপুরুষের বিরুদ্ধে তোমার নিরন্তর লড়াই টিকে থাক

।। মারুনা রাহী রিমি।।

মনটা একটু হালকা হালকা বোধ করছি। ইহার যথেষ্ট ন্যায়সঙ্গত কারণ রইয়াছে। বিখ্যাত এক আবৃতি ও নাট্য দলের বিশিষ্ট একজন ব্যক্তিত্ব এবং অতীব সুন্দর মুখোশধারি সদস্য নিজেকে উদার, সভ্য, পরিষ্কার মনের মানব হিসেবে উপস্থাপন করিতে গিয়া একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করিয়াছিল।

স্ট্যাটাসটি এরূপ ছিল যে, ” হ্যাপি, তোমাকে অভিনন্দন। একজন অন্যায়কারীকে আইনের হাত পর্যন্ত নিতে পেরেছ। যা আমরা অনেকেই পারি না। সমাজের রথী মহারথীদের বিরুদ্ধে অপরাধের নিশ্চিত প্রমাণ জেনেও আইনের দরজায় যেতে ভয় পাই। যদি আইনের চাকা ঘুরিয়ে দেয়া হয়, যদি আমার কথা আইন না বলে, যদি সমাজের অন্য কেউ আমার পাশে না থাকে রুই কাতলাদের দৌরাত্ম্য। কিন্তু তুমি প্রমাণ করলে আইন আইনের কথাই বলে।
পুরুষ শাসিত এ সমাজে একজন কাপুরুষের বিরুদ্ধে তোমার নিরন্তর লড়াই টিকে থাক……”

তার এই মিথ্যা অভিব্যক্তি এবং সুন্দর অভিনয়ে ম্যাক্সিমাম নারীর হৃদয় গলিয়া পুলকিত হইয়া একাকার হইবার কথা। দুর্ভাগ্যবশত তাহার সাথে তাহাদিগের মুখোশের পেছনের নোংরা আসল রূপ আমি সহ এমন বহু জন শুধু দেখেই নি, আজো সেই ভয়ংকর রূপের কথা মনে করে কাতরে উঠে। সেখানে তাহার এই মিথ্যা রূপে আমি কিছুতেই সম্মান জানাইতে পারলাম না। ইজ্জত লুণ্ঠনকারী, ইজ্জত লুণ্ঠনকারীর সমর্থক সহ এমন ব্যক্তিরা যখন ইজ্জত লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন চাপা ঝাড়ে নিজেদের উদারতা দেখাবার লক্ষ্যে তাদের জন্য আমার এমন লাথি মারা কমেন্ট তো যাবেই। এরা বাইরে থেকে দেখায় নারীর ইজ্জত আব্রু রক্ষা করছি আর ভেতরে গিয়ে নারীর কাপর খুলে ইজ্জত লুটে নিয়ে বলে- “সব দোষ সেই নারীর। আমি তো কিছুই করি নাই।”

যেই তার এই মিথ্যা চাপার বিরুদ্ধে সত্য বলে তার মুখোশে টান দিলাম অমনি গিয়ে লাগলো চরম আঘাত। জানতাম মিথ্যা মুখোশ ধরে সত্য দিয়ে টান মারলে জবাব তো দুরের কথা, কমেন্ট ই ডিলিট করে দিবে। পাশাপাশি আমাকে ডিলিট করলেও করতে পারে তা যদি সত্যের মুখোমুখি দাড়াতে সাহস না থাকে। যাহা ভাবিলাম এবং কমেন্ট এও উল্লেখ করিলাম তাহাই হইল। লাথি মারা কমেন্ট এ যেই মুখোশে লাগলো টান, সাথে সাথে সেই কমেন্ট এর জবাব তো দূরেই রইল, কমেন্টই গায়েব করিয়া দেয়া হইল। শুধু তাই নয়, এই ধরনের ডায়ালগ পুনরায় বলিলে তাহার মিথ্যা মুখোশে টান মারিয়ে সত্য জবাব দিব বলিয়া সরাসরি হুমকি দিলাম বলিয়া সুন্দর ভাবে চুপ চাপ লেজ গুটাইয়া আমাকে ডিলিট করিয়া ভাগিয়া গেল। ফেসবুকের আইডি তে থাকা মানেই তো তাদের এই সব মিথ্যা চাপার জোরে লাথি একটা খাবেই। সেই ভয়ে ডিলিট করিয়া দেখাইয়া দিল, আমি ভুল বলি নাই।

বিখ্যাত দলের এই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব যখন নিজেই প্রমাণ করিয়া দিল আমি সত্য ও সঠিক বলে তার মিথ্যা মুখোশে টান মেরেছি ও আগামীতে মারব অবিরত, তখন আমার কমেন্ট শুধু গায়েব করেই ক্ষান্ত হন নি, আমাকেই ডিলিট করিয়া প্রমাণ করিয়া দিলেন আমি সঠিক ছিলাম এবং আসলেই তারা মুখোশের আড়ালে লুকানো সেই নোংরা ধর্ষক দের লালন করিয়া যাইতেছেন দলের মধ্যে, সমাজের মধ্যে, পরিচিত ও বন্ধুদের মধ্যে, মনের মধ্যে, নিজের মধ্যে, মুখোশের আড়ালে। তাদের সেই আসল রূপ যাহারা দেখিয়াছে, জানে এবং মুখোশে টান মারিবে এমন ভয় আছে, তাদের আইডি থেকে ডিলিট করাই নিজেদের স্বার্থ ও মিথ্যা ইমেজ রক্ষার্থে কার্যকরী হবে।

তিনি যখন নিজেই আমাকে সত্য ও সঠিক প্রমাণ করে দিল তখন মনে মনে হালকা বোধ করাই স্বাভাবিক। আমি তো অপেক্ষায় ছিলাম কবে মুখোশে টান লেগে প্রায় খোলার উপক্রম হয় আর সেটার ভয়ে আমাকে সেই দলের প্রত্যেকে জনে জনে ডিলিট করা শুরু করে এবং শুধু তাই নয় আমাকে বয়কট করার আন্দোলনে অন্যান্যদের বাধ্য করেন সেই অপেক্ষায় আছি। আধা তো করেছে। এখনও আরও আধা বাকি। But feeling good & relief now. রোজ রোজ এই সকল মুখোশধারি শয়তানের ভুয়া অভিনয় ও মিথ্যা স্ট্যাটাস দেখে দেখে বিরক্তি ধরে গিয়েছিল। মাত্রই নিজেকে হালকা ও মুক্ত মনে হচ্ছে। এই খুশির কারণ এই যে, সত্যের জবাবে মিথ্যা মুখোশে টান পরবে সেই ভয়ে সত্যকেই গোঁড়া থেকে বাদ দেয়ার এই সুন্দর প্রমাণ আর কি হতে পারত। ধন্যবাদ সেই মুখোশধারি দাদাকে যিনি এক পাতিল দুধে লেবুর এক ফোটা রস হয়ে পরেছেন।

Leave a Reply

  • (not be published)