নিজস্ব বার্তা পরিবেশক ll জ্যৈষ্ঠের প্রচন্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। দেশজুড়েই এখন চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। একদিকে তীব্র গরম অন্যদিকে দুঃসহ লোডশেডিং সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জনজীবন। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। প্রচন্ড গরমে পেটের পীড়া, জ্বরসহ ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ। হাসপাতালে রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এদিকে বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকার কারণে চার্জার ফ্যান ও আইপিএস কাজে আসছে না। তাই মানুষ এখন ঝুঁকছেন হাতপাখার দিকে। গরমের হাত থেকে বাঁচতে রাজধানীর ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে প্লাস্টিকের হাতপাখা।

আবহাওয়া অফিস বলছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই মৃদু তাপপ্রবাহ আরও দুই এক দিন অব্যাহত থাকবে। তারপরই দেখা মিলতে পারে বৃষ্টির। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচা, পল্টন, গোপীবাগ, রামপুরা, গোড়ান, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, মিরপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, তাঁতীবাজার, বাসাবো, খিলগাঁও, মানিকনগর, কেরানীগঞ্জ, শ্যামপুর, লালবাগ, মালিবাগ, সোবহানবাগ, মোহাম্মদপুর, পরীবাগ, এ্যালিফেন্ট রোড, লালমাটিয়া, শ্যামলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকবার করে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। জেলা শহরগুলোর অবস্থা বেশি শোচনীয়। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুতের দেখা মেলে না।

দেশের সাভার, ধামরাই, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জসহ দেশের প্রতিটি এলাকাতেই চলছে লোডশেডিং।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। ঢাকার চাহিদা মেটাতে গিয়ে তাদের সরবরাহ অনেকাংশে কাটছাঁট করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ কারণে ঢাকার বাইরের সমিতিগুলোতে গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আরও বেশি। ঢাকাকে আলোকিত রাখতে রাতে বেশিরভাগ গ্রামকে রাখা হচ্ছে অন্ধকারে। সাধারণের মতে_ গ্রামে বিদ্যুৎ যায় না, আসে। বিদ্যুৎ দেয়ার নামে গ্রামের মানুষের সাথে শুধু প্রতারণা চলছে।

শহরাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া এবং গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মানুষ। লোডশেডিংয়ের কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। পানির সংকট যেন ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফুঁসে উঠছে জনগণ। বিদ্যুতের দাবিতে বিভিন্ন জেলায় মিছিলও হচ্ছে।

জানা গেছে, বর্ধিত চাহিদা ও উৎপাদনে পার্থক্যই লোডশেডিংয়ের মূল কারণ। এছাড়া বিতরণ-সঞ্চালনজনিত সমস্যাও রয়েছে। তবে আগামী চার দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

পরীবাগের বাসিন্দা ইশতিয়াক হোসেন জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকায় আইপিএসও আর বেকআপ দিতে পারছে না। ফ্রিজে খাবার রাখা যাচ্ছে না।

শান্তিনগরের বাসিন্দা অনিতা সাহা  বলেন, দিনে তো একটানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কিন্তু সন্ধ্যার পর এ যন্ত্রণা অসনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার লোডশেডিং হলে স্থায়ী হচ্ছে এক দেড় ঘণ্টা।

পুরানা পল্টনের আরিফ  হোসেন বলেন, কী আর বলবো, ছুটির দিন শুক্র শনিবারও লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মটর দিয়ে পানিও তোলা যাচ্ছে না। মোবাইলেও চার্জ দিতে পারছি না।

আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়াবিদ মো. আফতাব উদ্দিন সময় কে বলেন, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই মৃদু তাপপ্রবাহ আরও ২/১ দিন থাকতে পারে। এই ক’দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। এই সময়ে সূর্য সরাসরি মাথার ওপর থাকায়, ভূ-পৃষ্ঠ গরম হয়ে গেছে এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এরপর বৃষ্টিপাত শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। গতকাল সকালে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে এবং চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ দশমিক শূন্য আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবারও এই তাপমাত্রা ছিল। তবে তাপমাত্রা আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। গতকাল সকালে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে এবং চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ দশমিক শূন্য আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রিকে মৃদু, ৩৮ এর বেশি থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত মাঝারি ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এ হিসাবে বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে।

Leave a Reply

  • (not be published)