গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের পানখালী খালের সিস্নপার ব্রিজটি গতকাল দুপুরে ভেঙে পড়েছে। এ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০-৬০ শিশু শিক্ষার্থী ব্রিজ পার হওয়ার সময় ভেঙে পড়ে গেলে ১০ জন শিশু মারাত্মক আহত হয়। মারাত্মক আহত দুই শিশুকে গলাচিপা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে খালের পানিতে পড়ে যাওয়া সবাইকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত নভেম্বর মাসে উপজেলা প্রকৌশল দফতর থেকে ওই সিস্নপার ব্রিজটি মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। পিআইসির মাধ্যমে এ ব্রিজটি সংস্কার করা হয়। পিআইসি সভাপতি বজলুর রহমান দাবি করেন সিডিউল অনুযায়ী মেরামত করা হয়েছে। অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ এ ব্রিজটি সংস্কারে পুকুর চুরি করা হয়েছে। ফলে মেরামতের অল্প সময়ের মধ্যে ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় লোকজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এলাকাবাসী জানায়, পানখালী খালের ওপরের আয়রন স্ট্রাকচারের ওই সিস্নপার ব্রিজটি উত্তর পানখালী, দক্ষিণ পানখালী, কালারাজা, হরিদেবপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন ব্রিজ দিয়ে দেড়-দুই হাজার মানুষ খাল পার হয়। দুই পারের হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ব্রিজ পেরিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। পানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নেছারউদ্দিন জানান, বিকট শব্দে আকস্মিক ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসায় বড় ধরনের বিপদ থেকে সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পাওয়া গেছে। তারপরেও তার বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। স্বর্ণা, তানজিলা, তানিয়া, মিতু, তানজিলা-২ ও জাফরসহ ১০ শিশু শিক্ষার্থীকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পানখালী পাঞ্জাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম জানান, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটি মেরামতে কর্তৃপক্ষ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। পানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ব্রিজ অবিলম্বে মেরামত না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী যাতায়াতে চরম সংকটে পড়বে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্রিজটির কেবল কয়েকটি সস্নাব পাল্টানো হয়েছে আর নতুন রঙ করা হয়েছে। নিচের বিম হিসেবে ব্যবহৃত রেলের সিস্নপার অনেক আগেই জরাজীর্ণ ছিল। এসব কিছুই পরিবর্তন না করে যেনতেনভাবে কাজ করায় ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে।মেরামতের তিন-চার মাসের মাথায় ব্রিজ ভেঙে পড়া প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে বারবার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তার মোবাইল ফোন ঘটনার পর থেকেই বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

  • (not be published)