৬ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বুধবার, ২০ Jun ২০১৮, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

স্কুলভবনের কাজ বন্ধ ,ছাপড়া ঘরে চলছে ক্লাস

করিমগঞ্জের গুণধর ইউনিয়নের খয়রত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে টানা হয়েছে পল্লীবিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন। বিদ্যালয়টি পুরনো জরাজীর্ণ হওয়ায় শুরু হয়েছিল নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ। কিন্তু ওপর দিয়ে চলে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইন অপসারণ না করায় বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৮১সালে। এলাকায় বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন টানা হয় ১৯৯২ সালে। ফলে সেই সময় অপরিনামদর্শী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় বিদ্যুতায়নের জন্য নিজেদের খেয়ালখুশিমত বিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে লাইন টেনে দেয়। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দ্বিতল নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনে সম্প্রতি পুরনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ভবনের ওপর বিদ্যুত লাইন থাকায় বিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে লাইনের তার সরানোর তাগিদ দিলে তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বলছে, এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। বরং পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিরই স্বউদ্যোগে বিদ্যুৎ লাইন সরিয়ে নেয়া উচিত। নতুন ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পালন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বিদ্যালয়ের ভবনের নিচের অংশের কাজ দ্রুত শেষ হলেও উপরের অংশের কাজ বিদ্যুতের তারের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। ঠিকাদারের পক্ষ থেকে তার সরিয়ে দিতে বারবার তাগিদ দেয়া হলেও কোনো সাড়া মিলছে না। এলজিইডি বলছে, বিদ্যুতের তার সরানোর দায়িত্ব পল্লী বিদ্যুতের। তার না সরালে নতুন ভবন নির্মাণ কিছুতেই সম্ভব নয়। এদিকে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে একটি ছাপড়া ঘরে। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুল ছুটি। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির সময় কোন ক্লাশ হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের স্কুলটি দ্রুত নির্মাণ করে দেয়া হোক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় চার মাস ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কষ্ট করছে। বিঘ্নিত হচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মনির উদ্দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়ে দেন, খরচ দেয়া হলেই কেবল তার ও খুঁটি সরানো হবে। তিনি বলেন, অতীতে কিভাবে লাইন টানা হয়েছে তা আমি জানি না। তবে বর্তমানে আমরা ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখেই লাইন টানি। তিনি এলজিইডি, শিক্ষা অফিস বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে খরচের টাকা পরিশোধের অহ্বান জানিয়েছেন।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ-আল মামুন জানান, সমস্যাটি নিয়ে যখন পল্লীবিদ্যুতের কাছে তিনি যান, তখন বলা হয়েছিল একটি আবেদন করলেই তারা ব্যবস্থা নেবে। পরে ৭৯ হাজার ৫৩৭ টাকার একটি খরচের অঙ্ক ধরিয়ে বলা হয়, এ টাকা পরিশোধ করলেই খুঁটি ও তার সরিয়ে নেয়া হবে। করিমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামান বলেন, আমরা বিষয়টির সমাধান দিতে পল্লীবিদ্যুতের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনে লিখিতভাবে এর প্রতিকার চাওয়া হবে। করিমগঞ্জের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবদুল মালেক সিদ্দিকী বলেন, কাজটি মূলত শিক্ষা অধিদপ্তরের। এলজিইডি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। প্রায় কোটি টাকার ভবনটির কাজ শুরু হলেও বিদ্যুতের তারের জন্য আাগানো যাচ্ছে না। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের সঙ্গে বিদ্যুতের তার সরানোর জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। কাজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা ভেবে পল্লী বিদ্যুতের উচিত তারগুলো সরিয়ে নেয়া।

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি