অমর একুশে গ্রন্থ মেলা-২০১৭ তে ‘দ্বিপজ পাবলিকেশন্স’ হতে প্রকাশিত হয়েছে গল্পকার, চিত্রশিল্পী, সংগঠক, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- বাংলাদেশ সাহিত্য সংসদ এবং সাপ্তাহীক দ্বীপজ পত্রিকা’র সম্পাদক চৌধুরী সাব্বির এর গল্পগ্রন্থ “সন্তানের বাবা কে ?” শুনে আনন্দে উদ্বেলিত হলাম। চৌধুরী সাব্বির এর গল্পের সাথে কমবেশি পূর্বেই পরিচিত আমি কিন্তু এ গ্রন্থে সন্নেবেশিত গল্প পড়লাম ভিন্ন ভিন্ন মেজাজের ১০টি গল্প দিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশিত হচ্ছে। ছোট গল্পের আঙ্গিক, ভাব, ভাষাশৈলি, বিষয় নির্বাচন, বাক্য বিন্যাস সর্বপরি ভাষার মাধুর্যতার দিক থেকে গল্পকারের নিজস্বতা গল্প পড়ে প্রতিভাত হলো। জাহানারা মেটাল এণ্ড প্রিন্টিং প্রেস এর পরিচালক, সাবেক ব্যুরো চীপ- ঢাকা মহানগর উত্তর (ক্রাইম লাইন) সংগঠক, সম্পাদক, প্রকাশক এবং লেখক এতোগুলো সৃষ্টিশীল কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পারাকে আমি অসাধ্যকে সাধ্যের মধ্যে আনার সাধনা হিসেবে উল্লেখ করতে চাই। এতো অল্প বয়সে এতো বড় স্বপ্নের ক্যানভাস অংকনকে তো সাদুবাদ জানাতেই হয়। একজন মানুষের সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে মানুষ যতোই ছোট হোক না কেন, স্বপ্ন হতে হবে পৃথিবীর সমান বিস্তৃত যা আলোচিত গল্পকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প কিংবা মানিক বন্দোপাধ্যায় এর ছোট গল্প বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলেও অনেকেই ছোট গল্প লিখবার ক্ষেত্রে মুন্সিয়ানার পরিচয় দেখিয়েছেন যাদের নাম এই সল্প পরিসরে উল্লেখ নাই বা করলাম। চৌধুরী সাব্বির এর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম- কবিতা গ্রন্থ ‘রাতের তারা’ উপন্যাস ‘শোনো আমি আসছি’ এলোমেলো সুতো, গল্পগ্রন্থ ‘ক্ষনিকের ভালোবাসা’ এ ছাড়া নিয়মিতভাবে দৈনিক কাগজসহ দেশের অন্যান্য কাগজেও লিখছেন। গ্রাম-গঞ্জের বহুল প্রচারিত শব্দ এখন শহরের আটপৌড়ে জীবন যাপনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ‘গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাইতে বাজাইতে বায়েন’ তার সাথে আমি যোগ করতে চাই ‘লেখতে লেখতে লেখক’। লেখক দু’হাত ভরে লিখবেন, তার লেখার শিল্পমান নির্ণয়কালের উপর ছেড়ে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।মূল কথা হলো প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপিতে প্রেম এবং বিরহের কাহিনী বেশির ভাগ গল্পে লেখক পাঠক মহলে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। প্রেম বিরহকে সার্বজনীন করে উপস্থাপনের জন্য লেখক কখনও প্রকৃতির খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়েছেন আবার কখনো মনোজগতের মুখোমুখি হয়েছেন নিরবে নিভৃতে। কল্পনা এবং বাস্তবতার সংমিশ্রণে চৌধুরী সাব্বির’র গল্প এক নতুন মাত্রার উপস্থাপন। চিন্তার জগতটা যদি নাসার বিজ্ঞানিরা প্রতিদিন মেরামত করে তাহলে লেখকের হাত দিয়ে আরো চিন্তাশীল ছোট গল্প আমরা পেতে পারি। তবে গ্রন্থিত গল্পও কালের ইতিহাসে টিকে থাকতে পারে। গল্পকার চৌধুরী সাব্বিরকে নিয়ে শেষ কথাটি বলবার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে কারণ বয়স বিচারে গল্পকার একেবারেই তরুণ। পরিশেষে বলবো, “সন্তানের বাবা কে ? ” গ্রন্থটি অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭ তে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গ্রন্থটি পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে, সেই প্রত্যশা করছি।

3 Comments to: “সন্তানের বাবা কে ?”

  1. চৌধুরী সাব্বির

    March 19th, 2017

    স ম য়. ২৪ কে আন্তরিক ধন্যবাদ

    Reply
  2. Raton

    March 19th, 2017

    সংগ্রহে রাখার মত একটি বই

    Reply
  3. manjur noman

    March 19th, 2017

    Your Comment আমার খুব খুব কাছের মানুষ ওকে যে কি ভাবে সাধুবাদ জানাবো ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে বলবো তোমার চলার পথ হোক আরো মসৃন। দীর্ঘায়ু হও প্রিয় হে সাব্বির আলম চৌধুরি।

    Reply

Leave a Reply

  • (not be published)