জাতিস্মর

আমার নিজস্ব কোন অস্তিত্ব নেই
এখানে কোথাওই কেউ আমি নই,
তুমি যখন আমাকে আমারই কথা
বলতে থাকো, আবারও নিহত হই।
প্রতিটা শব্দে নিহত হই আর নিয়ত
প্রতিটা বাক্যে নিহত হই, আর তাই
তোমার সঙ্গে আমার কথোপকথন
সন্তর্পণে, সাবধানতায় এড়িয়ে যাই।
তুমি কাফকা, নাকি ভেনাস না কি
চার্বাক দুপুরে বিছানায় শোয়া ঘাম,
নাকি না লেখা কবিতার সে, যাকে
দিয়েছিলাম ভালবাসার এক নাম।
তুমি এভাবে এসোনা ফিরে ফিরে
সহস্র বরষা ভিজিয়েছে নয়ন যার,
আর কোন শ্রাবন যদি নাও আসে
শুকাবে কি জাতিস্মর অশ্রু তার?
….

চৈত্র সংক্রান্তি

চৈত্রের নস্টালজিক দুপুর আসে, পাশে,
বলে, কেন এই নগরে তুমি, নিভৃতচারী ?
বললাম, উড়ে যাবার সাধ ছিল- আকাশে,
কখন যে পথ হারালাম! কেমন করে ফিরি ?
সকাল এসেছিল সকালের আঙ্গিনায়-
ঘুম ভাঙলেই সেই তোমারই মুখচ্ছবি,
কত আলাপন রয়ে গেছে অব্যক্ত, হায়-
বাঁকিই রয়ে যাবে হয়তো আজও, সবই।
চলে যেতে চাই, কোন এক রাত্রির অজানায়-
বিকেল সন্ধ্যে পেরিয়ে গিয়ে, আঁধারের সাথে,
যেদিকে গিয়ে ফিরলো না আর কেউ হেথায়-
সেদিকেই, হঠাৎ চলে যাবো কোন এক রাতে।
থাকুক এমনই নগরের সব কোলাহল-
প্রতারক মুখোশ’রা আর নাগরিক প্রেম,
মন তুই আমার সঙ্গে ফিরে যাবি চল্-
যেখানে তুই আর আমি নিভৃতে ছিলেম।
….

ছেঁড়া ক্যানভাস

যা কিছু এঁকেছিলাম তোমার প্রেরণায়
সবটাই ধুয়ে মুছে অশ্রুজলে সিক্ত হয়ে
ভেসে চলে গেল, তোমারই আঙ্গিনায়।
রেখে তো গেলে না কিছু, যত ভালবাসা
আদর অভিমানের রোদবৃষ্টিতে গড়া প্রেম
জীবনের সব আলাপন, স্বপ্ন, সত্যি, আশা-
রয়ে গেল যা, তা শুধু আমারই অপরাধ
দৈন্যতাটুকুই দেখেছিলে শুধু, তাই জানলেনা
কোন সে প্লাবনে ভেঙেছিল আবেগের বাঁধ।
….

সে

ইদানিং কিছুতেই মনে পড়ে না ঠিক কোথায় এবং কবে
প্রথম দেখেছিলাম তাকে, শুধু মনে আছে তারপর নির্ঘুম
বুকের পাঁজরে বাসা বাঁধছিল কেমন যেন সব নতুন যন্ত্রনা,
আজও যেমন জানিনা কোন সে ভুবনে মহাসমূদ্র-চোখ দু’টি
রয়েছে জেগে, অথবা ঘুমিয়ে, তখনও তেমনই ছিল অনুভব।

হয়তো ইশতার-হাসি’টি তার ছুঁয়ে যায়নি কখনও কন্দর্প-প্রশ্বাস,
কিংবা নিদ্রাময় হঠাৎ একটি সকাল এসেছিল, ভেনাস আলিঙ্গনেই
প্রাচীন কোন বৃক্ষের কুঠুরিতে যখন বাসা বাঁধছিলো অতৃপ্ত প্রেম,
তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা আকাঙ্খার নদী-শ্রোত সাঁতরে কখনও
আমায় ছুঁয়ে দিতে হয়তো এসেছিল আফ্রেদিতি, ঘুমন্ত অবেলায়।
চির অপেক্ষমান রয় নিশ্চুপ পরিপাটি বিছানার ঘুমন্ত নিরালা দুপুর
যেখানে শুধু তার ভালবাসার অনুভূতি জেগে রবে লিবিডো বাহুপাশে
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে মায়াবী সন্ধ্যায় নিদ্রামগ্ন হবো আমরা দু’জন,
অতঃপর সারারাত তার কথোপকথনে উচ্চারিত হবে শুধুই কাব্যকথা
ঊষা’র স্বপ্নে বিভোর তখন সে আমার হবে, ঘুমোবার ঠিক আগে।

Leave a Reply

  • (not be published)