১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

মোহে বেটিয়া না কি যো…।। তামান্না সেতু

আগলে জানাম মোহে বেটিয়া না কি যো…

আমাদের বাড়ির বড় বউর বিয়ে হয়েছে আজ কুড়ি বাইশ বছর হবে। কোন ঈদ তাকে আমি তার বাবার বাড়ি করতে দেখিনি। মেজো বউও তাই ছিল। এমনিতে যেতো বছরে দু চারবার বাপের বাড়ি, কিন্তু ঈদে কখনো নয়। এ যেন এক অলিখিত চুক্তি শশুর বাড়ির সাথে।

আমার প্রথম স্বামীর সাথে আমি প্রায় আট বছর সংসার করেছি। সেখানেও একই নিয়ম ছিল। আমার মা-বাবার সেপারেশনের কারনে বছরে দুইবার শুধুমাত্র দুই ঈদে বাবা আমাকে দেখতে আসতো। ঈদের দিনটা আমার কাছে তাই শুধুই ঈদের দিন ছিল না কোন কালেই। ওটা আমার বাবা আসার দিন। বিয়ের পর আমার বাবাকে দেখার দিনটাও হারিয়ে গেলো কারন ঈদে আমাকে আবশ্যক নিয়মে শশুর বাড়িতেই থাকতে হত। সেখানে কাউকে আমি ভালভাবে জানি না। আমার সকল সই সাথি, অভ্যস্ত আপনজনদের আমার আর দেখা হত না। অথচ আমার স্বামী সারাদিন তার সকল বন্ধু এবং আত্বিয়ের সাথেই কাটাতো।

আমার প্রথম সন্তান আরাফের জন্মের ১৭ দিনের মাথায় কোরবানী ঈদ পরে। প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহ চলছে তখন। আমার শরীর কাচা। আমি খুব বিনয়ের সাথে মাদারিপুর আমার শশুরবাড়ি যেতে অমত জানাই। ঈদের আগের দিন বেলা ৪ টা থেকে আমার শশুর মশাই ফোন করে আমার প্রতি তাদের সকল অধিকার মনে করিয়ে দেয়। রাত ১২ টায় স্পিড বোটে যখন মাওয়া হয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছি তখন শীতে আমার ১৭ দিনের ছেলে কাবু। আমার কথা ছারুন।

কোরবানী ঈদের ঠিক যত সংখ্যক পশু হত্যা হয় তার সমপরিমান নারীও হত্যা হয় এ কথা কেউ কি অনুধাবন করেছেন?
অভ্যস্ত পরিবেশ, মা বাবার ছায়া, সই সাথিদের স্মৃতি বুকে নিয়ে এই নারীরা যখন গরুর গলায় ছুরি চালাতে দেখে, তখন তার ভেতরের ক্ষরন কেউ দেখে না। এরা মাথায় কাপড় দিয়ে শশুর শাশুরির পা ছোয় যখন তখন তার মনে পড়ে, ‘বাপজানের পাঞ্জাবীটা কে আগায় দিল আজ?’ ‘মা আমাকে না সাজিয়ে কোনদিন নিজে গোসলে যায় নাই, আজ এখন কি করছে মা?’

দিন না আপনাদের বাড়ির বউটাকে এবার নিজের বাড়ি যেতে। আপনার মেয়ে জামাইকেও একটা ফোন দিয়ে বলেন না ‘বাবা, তোমার মায়ের বুকে তোমারে না দেখলে যেমন জ্বলে, আমারো জ্বলে, মেয়েটা এবার বাড়িতে আসুক’।

কিছু মেয়ে বা বেশী সংখ্যক মেয়েই একসময় এই নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এই নিয়মকেই সুখ মনে হয়। কারন, মেয়েরা কিসে সুখি তাও এই সমাজ হাজার বছর আগে নির্ধারণ করে সেভাবেই মেয়েদের মানসিকতা গড়ে দিয়েছে!
তবুও…. তবুও….
পশু কোরবানীর পাশাপাশি এই ঈদে একটা বেঁধে রাখা মানুষ মুক্ত করুন না এ বছর।

ঈদের দিন একটা মেয়ে যখন কানে হেডফোন দিয়ে চুপি চুপি গান শোনে ‘আগলে জানাম মোহে বেটিয়া না কি জো’ আমার ভাল লাগে না। আপনার লাগে?

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি