ইভটিজিং শুধু স্কুলকলেজ বা রাস্তায় এমনকি বয়সভেদেও যে হচ্ছেনা সেটা টের পেলাম এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে………
এখন নীরবে মেয়েদের পোশাক এর দোকানেও যে হয়, তার প্রমান পেলাম বুধবার গাউছিয়া মার্কেটের দোতালায় মেয়েদের পোশাকের দোকানে। আগে বহুবার গিয়েছি ফাঁকা মার্কেটেও ঘুরেছি কিন্তু এখন চরম দশা।
কি মনে করে বাসায় পড়ার জন্য একটা ড্রেস দেখার জন্য গাউছিয়ার দোতালায় গেলাম। অনেকদিন এইসব দোকানে ঢোকা হয় কম। খুব কম মানুষ উপরে বাজে বিকাল ৫.৩০টা।
একটা দোকানে ৩ জন ৩ বয়সের সেলসম্যান। আমি ১ টা ড্রেস দেখতে চাইতেই তরুণ বয়সের ছেলেটি হাসতে লাগলো। ওর হাসি দেখে আমি থ !
— ম্যাডাম আপনার যা ফিগার আর গায়ের রং সব ড্রেসই ভালো লাগবে।
—মাঝবয়সী ভদ্রলোক বলা যাবেনা তাকে, অভদ্রলোকটি মুচকি হাসি দিল।
— এর মাঝে ১টি মেয়ে আসলো জামা দেখতে ৩৬ সাইজ চাইতে ৩ জনেই হেসে দিল।
— কন কি আপা আপনার হিপতো এই ম্যাডামের থেকেও দ্বিগুণ( আমাকে ইংগিত)
৩ জনেই হাসতে লাগলো। আপনার লাগবে ৪২ সাইজ।
—-আমি জানতে চাইলাম আপনাদের আয়না নাই??
—- কিশোর ছেলেটি টুল থেকে লাফ দিয়ে জোর গলায় গান ধরলও ……আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন …… সুন্দর জামা পড়া চেহারাটা দেখবে তখন। কি সুন্দর আপাগো আমার। ও আয়না তুমি সামনে এসোত…
ও জামা তুমি কয়েক পা এগিয়ে এসো আপা হাঁটতে চায় তোর সাথে……
—–এইবার আমার শরীর জ্বলে উঠলো। আমি জানালাম জামা আমার পছন্দ হচ্ছেনা। ২ হাজার টাকার জামা চাইছেন ৪ হাজার টাকার। তাও কাপড় এর মান ভালোনা।
চলে যাবার জন্য পা বাড়াতেই তরুণ সেলসম্যান পথ রুখে দাঁড়ালো। লক্ষ্মী আপু যাবেননা। আসেন জামাটা আপনার গায়ে পড়ায় দেই……
—- আমাকে জামা পড়ায় দিবেন এর মানে কি??
হাহাহাহাহা করে যখন হাসতে লাগলো ছেলেটি, তখন রাগ দমন করে চিৎকার দিয়ে বললাম ব্যাবসা করতে বসেছ নাকি মেয়েদের সাথে ফাজলামি করতে?? আমার সাথে পুরুষ মানুষ নাই, থাকলে তোমার কি হাল করতাম দেখতা।
—– কি করতেন ম্যাডাম?? বলেন না কি করতেন ??
আর কথা না বলে ছেলেটিকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে আসছি।
রাগে শরীর যখন ঘামতেছে দোয়া পড়তে পড়তে সিঁড়ি হারিয়ে ফেলছি অথচ চোখের সামনেই ছিল সিঁড়িটা।
কান ধরছি একা আর গাউছিয়ার উপরে যাবনা।

Leave a Reply

  • (not be published)