৬ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বুধবার, ২০ Jun ২০১৮, ১১:০৯ অপরাহ্ন

এদের কোন দোষ নেই ।। মাফরুহা অদ্বিতী

খুব ছোট তখন, আবছা মনে পরে – বাড়ির সামনে কি বা কাকে দেখে সবাই হাসাহাসি করছে, হৈ হৈ রব! পিছন থেকে মায়ের তারস্বরে ডাক! দৌড়ে আসি, গালে কষে এক চড় পরল। ‘হাসছিস কেন? ‘ কিন্তু কী জবাব দেই, কেন হাসছি নিজেই তো জানিনা। চুপ থাকি। মা জননীর রুদ্রমূর্তিকে ভীষণ ভয় পেতাম। বড় হয়ে শুনেছি, ছোটবেলায় ছড়া কাটতাম – বাপরে বাপ মামনির কী তাপ! সে তাপের কথা আজ বলতে বসিনি, যা বলছিলাম- সেইদিন এর সেই থাপ্পড়ের ব্যাখ্যা পেয়েছিলাম আরো পরে, যখন এরকম আরো একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন যাকে বা যাদের দেখে সবাই হাসছিল, টিপ্পনী কাটছিল, ঘৃণার প্রকাশ ঘটাচ্ছিল সবাই, তারা আমাদের মতোই মানুষ। পৃথিবীর বুকে আর দশটি সাধারণ শিশুর মতোই জন্ম হয়েছিল তাদের। একসময় বাড়ন্ত শিশুটির দেহে দেখা যায় কিছু ব্যতিক্রমী পরিবর্তন। ধীরে ধীরে সেই অবোধ শিশুটি বুঝতে শেখে সে আলাদা! হিজড়া ডাকটা অভিশাপ হয়ে কশাঘাত করে তাকে। সমাজে টিকে থাকার জন্য পরিবারও তাকে বাইরে ছুড়ে দেয়। অথচ অনেক উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও হিজড়া সম্প্রদায় এখন তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। তবু তারা অসহায়, নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের অনেক নাম- নপুংসক, শিখণ্ডী, উভলিঙ্গ, বৃহন্নলা, আরো কত। মানবিক বোধ আর শিল্পিত হাতের ছোঁয়ায় গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমায় উঠে এসেছে এদের জীবনের চালচিত্র। এমনকি কোন ধর্মও বলেনি তাদের ঘৃণা করতে। ইসলাম ধর্মে এরা মুখান্নাতুন, এদের কোন দোষ নেই, লজ্জা নেই যতক্ষণ পর্যন্ত তারা কোন অবৈধ কাজ না করে। হিন্দু ধর্মেও অনেকেই বিশ্বাস করেন তাদের আশীর্বাদ করার এবং অভিশাপ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ভারতের অনেকাংশেই তাদের আরবানী বলা হয়, তারা আরবান দেবতার পূজাও করে থাকে। আবার যীশু খ্রিষ্ট বলেছেন, ‘কিছু মানুষ আছে যারা জন্ম থেকে ইনুখ,তাদের কোন পাপ নেই।’ আর অধিকাংশ বৌদ্ধ লিপিতে ধর্ম প্রতিপালনে কোন লিঙ্গ ভিত্তিক বিভাজন করা হয় নি। কিন্তু তাতে কি, আমাদের বোধ জাগে না। আমরা তাদের দেখলেই দাঁড়িয়ে যাই মজা দেখতে। কেউ খোঁচাই তাদের, বিশ্রী ইংগিত করি ইত্যাদি। কদাচ কেউ যদি সেই নোংরা নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ করতে যাই, তার কপালেও সমান নোংরামি জোটে। মনুষ্যপ্রজাতি এমনও বলে – ‘ হিজড়ার জন্যে এত দরদ ক্যান? সন্দেহজনক, কাপড় খুলে…।’ আহারে আমরাই কিনা সৃষ্টির সেরা জীব! ভুলে যাই আমিও একজন শিখণ্ডী হয়ে জন্ম নিতে পারতাম, অথবা আমার সন্তান! তাই আর কিছু না পারি নিজে অন্তত ওদের সম্মান দেই আর নিজ সন্তানকে শিখাই সকল সৃষ্টির উপর শ্রদ্ধাশীল হতে, ভালবাসতে।

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি