৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮, ১০:১৮ অপরাহ্ন

অমর একুশে বইমেলা :কিছু প্রস্তাব…

আর মাত্র দিন এগারো বাকি। আসছে অমর একুশে বইমেলা-২০১৭। বাঙালির মিলনমেলা, বাঙালির প্রাণের মেলা। লেখক, পাঠক, প্রকাশক—এই তিনের মিলনমেলা। বাহ্যিকভাবে তা মনে হলেও এর পিছনে আরও যন্ত্রীরা আছেন যারা আড়ালে নিরলস পরিশ্রম দিয়ে লেখকের পাণ্ডুলিপি থেকে একটি লেখাকে পুস্তকাকারে একেবারে পাঠকের হাতে পৌঁছে দেন। তারা হলেন: গিয়ে প্রচ্ছদশিল্পী, মুদ্রাকর, বাঁধাইকারী থেকে শুরু করে বই বহনকারী কুলি পর্যন্ত। এখন সেই মহারণ চলছে। পুস্তক শিল্পের সাথে জড়িত শিল্পীরা এখন মহা ব্যস্ত। নতুন নতুন রঙিন মলাটে এক নতুন বইয়ের অভিষেক ঘটবে। নতুন নতুন বইয়ের জন্ম হবে। পুরো মেলাজুড়ে বই আর বই। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, এক চমত্কার আয়োজন। দলবেঁধে শিশু-কিশোরসহ তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্ক পাঠকরাও বয়সের বাধাকে তুড়ি মেরে বইমেলায় হাজির। এমনও পাগল পাঠক আছেন যারা সারাবছরই অপেক্ষা করে থাকেন এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য। অনেক শিশু-কিশোররা আছে যারা সারাবছর টাকা সঞ্চয় করে বইমেলা থেকে বই কেনার জন্য। এমন পাগল পাঠক আর কোথায় পাওয়া যাবে? কারণ অমর একুশে বইমেলা তার রূপের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে। একটি জাতি টিকে থাকে সাহিত্য আর সংস্কৃতি দিয়ে। মননশীলতার লালন-পালন হয় সাহিত্য দিয়ে। সাহিত্য প্রকাশিত হয় বইয়ের মাধ্যমে। একথা ঠিক যে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে খুব সহজেই একটি বই প্রকাশ করা সম্ভব। মুদ্রণযন্ত্র এবং মুদ্রণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কারণে প্রকাশনা শিল্প এখন আগের চাইতে অনেক সহজ হয়েছে। সেই কারণে লেখক তার আজন্ম লালিত সাধনা সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারেন। একটি সাহিত্যকর্ম বই আকারে পাঠকের নিকট হাজির হয় তার বেশ অনেকটাই কৃতিত্ব প্রকাশের। প্রকাশক যেন স্বেচ্ছায় গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়। পক্ষান্তরে বলা যায় সিংহভাগ কৃতিত্ব প্রকাশকের। বর্তমানে বইমেলা বৃহত্ আকারে আয়োজন করা হয়। পাঠক, প্রকাশকের প্রায় সব অনুরোধই রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি। আর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। সেই সূত্র ধরে বলা যায় গত বই মেলা ছিল একটি সার্থক আয়োজন। এজন্য অকৃপণভাবেই সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ দেয়া যায়। এরপরেও কিছু জিনিসের অভাব অনুভূত হয়। কারণ চাহিদার তো শেষ নেই। এ বিষয়ে বেশকিছু সুপারিশ করাই যেতে পারে। এক. একটি বইয়ের জন্ম হয় লেখকের মাধ্যমে। তাই লেখকের সম্মানীর ব্যাপারটি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। বই মেলাতেই ছোটখাট আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সম্মানী প্রদান করা যেতে পারে। সেই সাথে লেখকের রয়ালিটি সুরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমি একটি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। দুই. বই মেলার প্রাণ হলো পাঠক। তাই পাঠকের কিছু সুবিধার দিকে একটু নজর দেয়া যেতেই পারে। বইমেলার স্টলবিন্যাস এমনভাবে করা উচিত যাতে পাঠকরা খুব সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রকাশনী খুঁজে পেতে পারে। স্টলের সামনে পাঠকের দাঁড়ানোর স্থানটিতে কার্পেট বা ম্যাটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তিন. নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর পাঠক ও দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতে ক্লান্ত পাঠক ঘোরাঘুরির ফাঁকে একটু জিরিয়ে নিতে পারেন। চার. যেখানে বসার ব্যবস্থা থাকবে সেখানে টি-স্টল অথবা কফিশপের ব্যবস্থা থাকতে পারে। তাতে ক্লান্ত পাঠক বিশ্রামের পাশাপাশি চা বা কফি পান করে নিজেকে একটু সতেজ করে নিতে পারেন। পাঁচ. মেলা প্রাঙ্গণসহ আশেপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। ছয়. বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে বইমেলা পরিদর্শনে আগ্রহী হয় সেজন্য বই বিক্রিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সাত. নতুন লেখকদের লেখালেখিতে আরও উত্সাহিত করার জন্য প্রিন্টমিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশি প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। আট. মেলাচলাকালীন প্রতিদিন প্রকাশিত বইয়ের তালিকা বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। তাতে পাঠকরা তাদের পছন্দসই বইয়ের একটা তালিকা করে নিতে পারেন। নয়. শিশুদের কর্ণার এক জায়গায় হওয়া উচিত। যাতে শিশুরা সহজেই তাদের প্রিয় লেখকের প্রিয় বইটি খুঁজে পেতে পারে। দশ. লেখালেখি বা প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রচলিত বানানরীতি অনুসরণ করা উচিত যাতে প্রকাশিত বই সর্বাধিক নির্ভুল হয়। এগারো. বিভিন্ন আঞ্চলিক পাঠাগার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের সারাবছরের প্রয়োজনীয় বইমেলা থেকে ক্রয় করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের বিশেষ কমিশন দেয়া যেতে পারে। তাতে প্রকাশক এবং লেখকরা স্বস্তি বোধ করবেন। বার. বইয়ের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করতে বইমেলা একটি উত্কৃষ্ট মাধ্যম হতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। অভিভাবকরা তাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের অবশ্যই বইমেলায় নিয়ে যাবেন এবং তাদের পছন্দমতো বই কিনে দেবেন। তের. মান সম্পন্ন বই প্রকাশের ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এবং সাহিত্যকর্ম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চৌদ্দ. মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন সাহিত্য পুরস্কারের প্রবর্তন করা যেতে পারে। তাতে নতুন লেখক এবং প্রকাশকরা উত্সাহিত হবেন। পনের. বাংলাদেশের সাহিত্য বিশ্ব দরবারে পৌঁছতে হলে সবাইকে মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অমর একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। বাঙালি জাতিসত্তার মিলনমেলা।>সময় ডেস্ক
Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি