রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় কারখানার মালিকদের কোনো অপরাধ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, এর জন্য দায়ী ভবনের মালিক সোহেল রানা। যারা ভবনের বাড়তি অংশ করতে অনুমোদন দিয়েছে বা করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। জুরাইন কবরস্থানে ওই দুর্ঘটনায় নিহত ২৫৪ জনকে সমাহিত করা হয়েছিল, যাঁদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে ঢাকার সাভারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হন হাজারো শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন।বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইডের গবেষণায় উঠে এসেছে, চার বছর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় যেসব শ্রমিক আহত হয়েছিলেন, তাঁদের ৪২ শতাংশ এখনো বেকার। এ সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘গত দেড় বছরে একটি লোকও বিজিএমইএতে এসে বলেননি যে চাকরি পাননি বা আহত। আমাদের কাছে আনা হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এ ধরনের প্রতিবেদন আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। আমি মনে করি, ১৮ তারিখে কমপ্যাক্টের মিটিং আছে, জুনে আইএলসির মিটিং আছে। দেশে যদি আমরা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াই, তাহলে ক্ষতিটা হবে আমাদের।সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকার ও শ্রম মন্ত্রণালয় মিলে যে ট্রাস্ট ফান্ড আছে, তাতে এখনো টাকা আছে। যদি কেউ কাজ না পেয়ে থাকেন, কেউ চিকিৎসা না পেয়ে থাকেন, বিজিএমইএর কাছে এলে সরকার ও বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘রানা প্লাজায় যে বিল্ডিং ছিল তা শতভাগ কমপ্লায়েন্স ছিল। তা দেখেই ফ্যাক্টরি মালিকেরা ভাড়া নিয়েছিল। ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের দেখার বিষয়, কিন্তু ওই ভবনের স্ট্রাকচার আমাদের দেখার কথা না।বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ভবনটি হওয়ার কথা ছিল ছয়তলা। অথচ দশতলা করা হয়েছিল। এই দশতলা যাদের চোখের সামনে করেছে তারা এর জন্য দায়ী। কিন্তু কারখানা মালিকদের তো কোনো অপরাধ নেই। যারা ভবনের বাড়তি অংশ করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। যে ভবনটি করেছে এবং যারা ভবন তৈরিতে অনুমোদন দিয়েছে, এটা তাদের দায়।

Leave a Reply

  • (not be published)