৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮, ১০:৩১ অপরাহ্ন

ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ায় পিছিয়ে নারীরা

জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করতে হবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, ২০১৬ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে (এসএমই) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে ঋণ বিতরণ করেছে, তার মধ্যে নারীরা পেয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়, তা হচ্ছে হয়রানি। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণের বিষয়ে অজ্ঞতা বা ভীতিও কাজ করে নারীদের মাঝে। এই পরিস্থিতিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু নীতি-সমর্থন ও বাড়তি সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এসএমই খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যা ২০১৫ সালের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণের হার ১২৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। তবে এ ঋণের মধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে গিয়েছে ৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, গত বছর ৪১ হাজার ৬৭৫ জন নারী উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন। টাকার অঙ্কে নারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ করা ঋণের হার আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে, ২৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ পেয়েছেন নারীরা। এ ছাড়া ২০১৬ সালে সামগ্রিকভাবে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়লেও ঋণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা কমেছে ৭৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে মোট নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৩।নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমনি নারীদের অজ্ঞতাও লক্ষ করা যায়। কেন নারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমছে, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ঋণ নিতে এত বেশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা কাগজপত্র দেখাতে হয় যে তা হয়রানির পর্যায়ে চলে যায়।বিজ্ঞাপনী সংস্থা অ্যাডকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অনেক নারী আসলে জানেনই না যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করার মানসিক শক্তি তাঁরা অর্জন করতে পারেন না। এ ছাড়া হেনস্তার একটা বিষয় থাকে, ব্যাংকে কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে, এই সংযোগটি তৈরি হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এসব বিষয়ে নজর দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে। তবে ঋণ নেওয়ার এই সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি মনে করেন, একজন নারী ব্যবসা করছেন সমাজে, এই মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন।আর্থিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতার বিষয়ে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান অতিসম্প্রতি প্রথম আলোয় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় বলেন, নারী-পুরুষের মাঝে সমতা আনার ক্ষেত্রে সমান সুযোগের একটা বিষয় তোলা হয়। নারীরা শুরু থেকে অনেক বঞ্চিত হন। তাই শুরুতে তাঁদের সুবিধা না দিলে সমতা আনা কখনোই সম্ভব নয়।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে এখনো নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন। দেশে ৪২ হাজারের বেশি কলকারখানা থাকলেও মাত্র ২ হাজার ১৭৭টি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ কারখানার মালিক নারী।

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি