৩রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ শনিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৮, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

পাঁচ হাজার কণ্ঠে ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম’

সময় ডেস্ক ll

রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের আদলে এক সঙ্গে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর কণ্ঠে সেই গগনবিদারী উচ্চারণ ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম’।

এতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে জেলার বাজিতপুর পৌর শহরের মধ্যভাগলপুর নাজিম ভূইয়াবাড়ি ঈদগাহ মাঠ ও এর আশপাশ। এ যেন এক নতুন মুক্তিযুদ্ধের ডাক। অবাক-বিস্ময়ের বইপড়া উৎসবের এ তেজোদ্দীপ্ত মহড়ার দৃশ্য এবং হাজারও তারার মেলা দেখল বাজিতপুর উপজেলাবাসী।

তিন হাজার ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে জেলার কুলিয়ারচরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যবহারিক ক্লাস আয়োজনের মাধ্যমে গিনেস বুক অব রেকর্ডে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রয়াসের পর এবার বাজিতপুরে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সর্ববৃহৎ বইপড়া উৎসব।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ বইপড়া উৎসবে বাজিতপুর উপজেলার ১৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় তারা নিজ নিজ ক্লাসে পাঠ্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম’, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করে।

বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ বইপড়া উৎসবে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি ও জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বইপড়া উৎসবের আয়োজক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পী, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার আলম, পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আশরাফ প্রমুখ। সকাল ১০টা থেকে এ বইপড়া উৎসবে অংশ নিতে নাজিম ভূইয়াবাড়ির ঈদগাহ মাঠের দিকে আসতে থাকে শিক্ষার্থীরা। তারা নজিরবিহীন শৃংখলা রক্ষার মাধ্যমে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করে নির্ধারিত বেঞ্চে নিজ নিজ আসনে বসে। প্রবেশপথে কথা হলে হাফেজ আবদুর রাজ্জাক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ফার্স্টবয় প্রত্যয় সরকার জানায়, ‘এ স্বপ্নের আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত। রাতে এ উৎসবে অংশ নেয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুমিয়েছি। আমার কাছে এ উৎসব প্রাণের উৎসব হিসেবে মনে হচ্ছে- কেননা আমরা শিক্ষার্থী।

বই-ই হচ্ছে আমাদের জানা-শোনার এবং মেধা বিকাশের মাধ্যম। এ মাধ্যমটিকে আমরা যত গভীরভাবে জীবনের সঙ্গে জড়াতে সক্ষম হব- তত বেশি সাফল্যের মুখ দেখব।’ আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী নাবিলা বিনতে রফিকের সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন জাতি। আমরা রক্তে কেনা স্বাধীনতার গল্প শুনেছি। এবার আমাদেরও ভিন্ন রকম যুদ্ধ ও সংগ্রামে অংশ নিতে হবে- আর সে সংগ্রাম হচ্ছে উন্নত জাতি গঠনের। উপযুক্ত শিক্ষা ও জ্ঞান-গরিমা অর্জনের মাধ্যমেই সে লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে। আর এর জন্য পাঠাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই।’ মাঠের বাইরেরাবারকান্দি গ্রামের মো. আবুল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও পুস্তক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তিনি এ আয়োজনকে যুগোপযোগী এবং ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তবে এ কর্মোদ্যমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিজ নিজ বিদ্যালয় ও অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পী জানান, ‘শিক্ষার্থীরা আজকাল বইপড়া ছেড়ে দিয়ে ফেসবুকের দিকে ঝুঁকছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। এতে পাঠাভ্যাসের চর্চা কমে যাচ্ছে। এসব কারণে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।’

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি