৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ১৯ Jun ২০১৮, ০১:০১ অপরাহ্ন

ভাস্কর আব্দুল্লাহ খালিদ চিরনিদ্রায় শায়িত

সময় ll  মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ‘অপরাজেয় বাংলা’র ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গতকাল রবিবার সকালে সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের মরদেহ নিয়ে আসা হয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শিল্পীর কফিন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রমুখ।

এর আগে গ্রিন রোডের বাসা থেকে ভাস্কর আব্দুল্লাহ খালিদের মরদেহ নিয়ে আসা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণে। সেখানে তার শিক্ষক, সহকর্মী, শিল্পী, শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেলা সোয়া ১২টায় কলাভবনের সামনে তার অসামান্য কীর্তি ‘অপরাজেয় বাংলা’র পাদদেশে নেওয়া হয়। এসময় সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। গত শনিবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে আবদুল্লাহ খালিদ ৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আসর তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ভাস্কর আব্দুল্লাহ খালিদের মরদেহ ‘অপরাজেয় বাংলা’র পাদদেশে নেওয়া হলে আওয়ামী লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলা একাডেমি, নাট্য সংগঠন পদাতিক বাংলাদেশ, এশিয়াটিক সোসাইটি, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অসীম কুমার উকিল, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ, সঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ডাকসুর সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ম. হামিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিল্পী, সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী, ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান, শিল্পী মনিরুল ইসলাম, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীসহ চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতার পক্ষের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি পোস্টার এঁকে সেগুলো মিছিলে নিয়ে আসতেন। তার গড়ে যাওয়া অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যটি এখনো আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণার উত্স।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অপরাজেয় বাংলা তার অমর সৃষ্টি, যা তাকে অমর করে রাখবে। এ ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে তিনি যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেছেন, তরুণ প্রজন্ম সে পথে চলবে।

ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান বলেন, খালিদ সাহসী একজন মানুষ ছিলেন। সাহসিকতার সঙ্গে তিনি ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন।

চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী বলেন, সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ অসম্ভব সাহসী মানুষ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তার মধ্যে ছিল সদা বিরাজমান। সে আমার প্রিয় ছাত্র ছিল। অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে। সে সময়ে এই ভাস্কর্যের জন্য তিনটা লে-আউট চাওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল, সেটার কাজ হতে হবে সিমেন্ট দিয়ে। খালিদ সেটা করতে পেরেছিল। ‘অপরাজেয় বাংলা’ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনেও খালিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।ভাস্কর্য নির্মাণে সেই সম্পৃক্ততা প্রেরণা যুগিয়েছে l
জেপি’র নেতারা শোক বার্তায় বলেন, ‘আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’

Logo


© ২০১২ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

BTL Ltd

ফোনঃ ৯৫৭১৬২৫

সম্পাদক:
যোগাযোগ: ৫১/৫১ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১০ম তলা), ঢাকা
ই-মেইলঃ news@somoy24.com,
toprealnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি